নিঝুমদ্বীপ

জোয়ারের পানিতে প্রতিফলিত নিঝুমদ্বীপের তালগাছ
নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যানে চিত্রা হরিণ
নিঝুমদ্বীপের উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর স্থানীয় মানুষ

ছবি: Sultan Ahmed Niloy · CC BY-SA 4.0

ছবি: Israt Hakim · CC BY-SA 4.0

ছবি: Asikul Islam Himel · CC BY-SA 4.0

নিঝুমদ্বীপ হাতিয়ার মূল দ্বীপের দক্ষিণে মেঘনার অগভীর মোহনায় পলি জমে গড়া নবীন চরগুলোর সমষ্টি। এটি হাতিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের একটি এবং মূল দ্বীপ থেকে আরও একটি জলপথ পাড়ি দিতে হয়। প্রকাশিত আয়তন ও জনসংখ্যা ইউনিয়ন, শুকনো ভূমি, জোয়ারভাটার এলাকা বা আশপাশের চর অন্তর্ভুক্তির ওপর বদলায়; তাই এই নির্দেশিকায় কোনো বিতর্কিত সংখ্যাকে নির্ভুল হিসেবে দেখানো হয়নি।

নিঝুমদ্বীপ নামটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দ্বীপটি চর ওসমানসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। প্রাথমিক বসতি ও নামকরণের বিবরণে ভিন্নতা আছে, তাই স্থানীয় মৌখিক ইতিহাসকে একক চূড়ান্ত কালপঞ্জি না ধরে সরকারি নথির পাশাপাশি পড়া উচিত।

বন বিভাগের বনায়নে নবীন চরের কিছু অংশ কেওড়াপ্রধান উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ও বনে রূপ নিয়েছে। এখানে ছাড়া চিত্রা হরিণ দ্বীপের সবচেয়ে পরিচিত বড় স্তন্যপায়ী হয়ে ওঠে; কাদামাঠ, খাল, তৃণভূমি ও অগভীর পানি দেশি-পরিযায়ী পাখি এবং মোহনাজীবের আবাস। নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান স্থল ও জোয়ারভাটার আবাস রক্ষা করে, আর ২০১৯ সালে ঘোষিত ৩,১৮৮ বর্গকিলোমিটারের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা আশপাশের জলসীমায় সংরক্ষণ বিস্তৃত করেছে। জরিপ ও বছরভেদে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বদলায়, তাই দেখা বা সংখ্যা কখনো নিশ্চিত বলা উচিত নয়।

বন, বন্যপ্রাণী, জোয়ারভাটার খাল ও খোলা উপকূলের সমন্বয় দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। নামার বাজার সবচেয়ে পরিচিত সৈকত এলাকা; স্থানীয় নৌপথ ও হাঁটার পথ অন্য চর ও বনপ্রান্তে নিয়ে যায়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সাধারণত শুষ্ক ও আরামদায়ক এবং পরিযায়ী পাখির সময়, তবে নিরাপদ চলাচল জোয়ার ও আবহাওয়ার ওপরই নির্ভর করে। বন বা চর-পথে স্থানীয় গাইড নেওয়া জোরালোভাবে পরামর্শযোগ্য।

পর্যটন স্থানীয় পরিবারের আয় বাড়াতে পারে, তবে দ্বীপটি নিচু, ভাঙনপ্রবণ ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল। অনুমোদিত পরিবহন ও স্থানীয় সেবা নিন, হরিণ-পাখি থেকে দূরত্ব রাখুন, বন্যপ্রাণীর কাছে ফ্ল্যাশ বা উচ্চ শব্দ ব্যবহার করবেন না, বর্জ্য সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন এবং রওনার আগে থাকার ব্যবস্থা ও ফেরার পারাপার নিশ্চিত করুন।

  • নামার বাজার উপকূল

    দ্বীপের সবচেয়ে পরিচিত সৈকত এলাকা; জোয়ার ও ঋতুতে অবস্থা ও উপকূলের আকৃতি বদলায়।

  • চিত্রা হরিণ পর্যবেক্ষণ

    ভোরে নীরব পর্যবেক্ষণে দেখার সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তবে কখনো নিশ্চিত নয়। স্থানীয় গাইড নিন ও দূরত্ব রাখুন।

  • নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান

    কেওড়াপ্রধান বন, কাদামাঠ, খাল, তৃণভূমি ও জোয়ারভাটার সংরক্ষিত আবাস।

  • নিঝুমদ্বীপে পৌঁছানো

    বহুল ব্যবহৃত পথে চেয়ারম্যান ঘাট–নলচিরা পার হয়ে হাতিয়ার দক্ষিণে গিয়ে আবার জলপথ পার হতে হয়। যাত্রার দিন স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত করুন।