ইতিহাস-ঐতিহ্য
হাতিয়ার চর দ্বীপগুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে তরুণ — শত শত বছর ধরে মেঘনার পলি দিয়ে বারবার গড়ে ওঠা, ভাঙন ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেছে; কিছু বিবরণে এখানে বসতি স্থাপনের ইতিহাস প্রাচীনকাল পর্যন্ত টানা হয়, এমনকি খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীতে ভূগোলবিদ টলেমির বিবরণেও বঙ্গোপসাগরের এই অংশের দ্বীপগুলোর উল্লেখ পাওয়া যায় বলে কেউ কেউ মনে করেন। তুলনামূলক সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় আরও সাম্প্রতিক ইতিহাস — বাংলাদেশের স্বাধীনতার বহু আগে থেকেই হাতিয়া একটি থানা হিসেবে পরিচালিত হতো, এবং এখানকার প্রথম সাব-কোর্ট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯১২ সালের ১৯ জানুয়ারি।
১৯৮৩ সালে হাতিয়াকে থানা থেকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত করা হয়, যা আজকের স্থানীয় সরকার কাঠামো — উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়নসমূহ এবং ২০০৫ সাল থেকে একটি পৌরসভা — গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করে। মেঘনা মোহনার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই হাতিয়ার ইতিহাসও নদীর সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত — বহু গ্রাম, বাজার, এমনকি পূর্ববর্তী প্রশাসনিক কেন্দ্রও ভাঙনে বিলীন হয়ে নতুন জেগে ওঠা চরে একাধিকবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।