পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী

হাতিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে সক্রিয় ব-দ্বীপীয় পরিবেশগুলোর একটিতে অবস্থিত। মেঘনাবাহিত পলি নতুন চর গড়ে তোলে, আবার স্রোত ও ঢেউ অন্যত্র ভূমি সরিয়ে নেয়। ১৯৭৩–২০২১ সময়কাল নিয়ে গবেষণায় উত্তর উপকূলের কিছু অংশ প্রায় ১২ কিলোমিটার পিছিয়ে যাওয়া এবং বছরে আনুমানিক ১০০–৫৫০ মিটার ভাঙনের হার পাওয়া গেছে। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা-অনুমান—প্রতিটি গ্রাম বা বছরের পূর্বাভাস নয়।

নিঝুমদ্বীপের আশপাশে বন বিভাগের বনায়নে নবীন চর লবণসহিষ্ণু উপকূলীয় বনে, বিশেষ করে কেওড়া বনে রূপ নিয়েছে। ম্যানগ্রোভ, কাদামাঠ, খাল, তৃণভূমি ও অগভীর পানির এই মিশ্র আবাসে চিত্রা হরিণ, দেশি ও পরিযায়ী জলচর পাখি, মাছ, কাঁকড়া-চিংড়ি ও অন্যান্য মোহনাজীব বাস করে। এটি বনায়নে গড়া উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ ব্যবস্থা; সুন্দরবন নয়।

নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান স্থল ও জোয়ারভাটার আবাস রক্ষা করে। বাংলাদেশ ২০১৯ সালে নিঝুমদ্বীপের চারপাশে ৩,১৮৮ বর্গকিলোমিটারের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকাও ঘোষণা করে। সংরক্ষিত এলাকা মানেই বন্যপ্রাণী দেখা নিশ্চিত নয়—জোয়ার, ঋতু, মানুষের উপস্থিতি ও খাদ্যের সাথে হরিণ-পাখির চলাচল বদলায়।

ম্যানগ্রোভ বাতাস ও ঢেউয়ের শক্তি কমায় এবং নতুন ভূমি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে; অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা, ভাঙন ও বদলে যাওয়া নদীপথ জনপদের ঝুঁকি বাড়ায়। নির্ধারিত পথ ব্যবহার, স্থানীয় গাইড নেওয়া, প্রাণী থেকে দূরত্ব রাখা ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক এড়িয়ে দর্শনার্থীরা সহায়তা করতে পারেন।

  • নিঝুমদ্বীপ জাতীয় উদ্যান

    উপকূলীয় বন, তৃণভূমি, খাল, কাদামাঠ ও চর-আবাস।

  • চিত্রা হরিণ

    দেখা জোয়ার, ঋতু ও নীরব পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে।

  • সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা

    ২০১৯ সালে ঘোষিত ৩,১৮৮ বর্গকিলোমিটারের সংরক্ষিত সমুদ্রাঞ্চল।